ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ ও কারণ এবং উপসর্গসমূহ

Dibates treatment

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ ও কারণ এবং উপসর্গসমূহ

প্রাথমিক ভাবে ডায়াবেটিস কে দুইভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ

১. ডায়াবেটিস ইনসিপাইডাস ( Diabetes Insipidus):

এই প্রকার ডায়াবেটিস এর বৈশিষ্ঠ হল এতে প্রস্রাবে কোনো শর্করা নির্গত হয় না, অতিরিক্ত প্রস্রাব নির্গত হয় এবং ঘন ঘন পিপাসা লাগে।

২.ডায়াবেটিস মেলাইটাস ( Diabetes Meletus):

এই প্রকার ডায়াবেটিস রোগীর প্রসাবে গ্লুকোজের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস মেলাইটাস আবার দুই ধরণের হয়ে থাকে । যথা:

ক) ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস ( Type I Diabetes) যখন দেহের মধ্যকার ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলি মোটেই কাজ করেনা অর্থাৎ দেহ যদি আদৌ কোনো ইনসুলিন উৎপাদন না করে তবে কোষ গুলির মধ্যে কোনো গ্লুকোজ প্রবেশ করতে পারেনা। এই ধরনের ডায়াবেটিসকে বলে ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস। এই ধরনের ধরনের ডায়াবেটিসকে কেউ কেউ প্রথম শ্রেণীর ডায়াবেটিসও বলে থাকেন।এই ধরনের ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই তখন বেঁচে থাকার জন্য তাদের অবশিষ্ট জীবনে ইনসুলিন ইনজেকশনের উপর নির্ভর করে চলতে হয়। সব ডায়াবেটিস রোগীর কেবল শতকরা প্রায় ১০ ভাগ ইনসুলিন নির্ভর । এই ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণতঃ শৈশব বা যুবক বয়সে শুরু হয়।

গ) গর্ভবস্থার ডায়াবেটিস ( Gestational Diabetes) এটি এক বিশেষ ধরনের অস্থায়ী ডায়াবেটিস যা গর্ভকালীন অবস্থায় হয়ে থাকে। এই ধরণের ডায়াবেটিসে মা ও শিশু ঊভয় আক্রান্ত হয়ে থাকে । শতকরা প্রায় ৩.৫ ভাগ গর্ভবতী মায়েদের এ জাতীয় ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। আধুনিককালে গবেষকরা এই প্রকার ডায়াবেটিসকে তৃতীয় ডায়াবেটিস বলে আখ্যায়িত করেছেন । যদিও এটি অস্থায়ী এবং বাচ্চা প্রসবের পর সেরে যায় তবুও এর চিকিৎসা জরুরী অন্যথায় পরবর্তি জীবনে Type II ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায় ।

ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ সমূহ

১. বংশগত কারণে

২. অনিয়মিত খাদ্যভাস

৩. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

৪. ঔষধের পার্শ প্রতিক্রিয়া

৫. হরমোনের প্রভাব

৬. মানসিক কারণে

৭. ভাইরাস জনিত রোগে ভুগলে

৮. অন্য রোগের কাড়ণেঃ যেমন- অগ্নাশয় প্রদাহ , হার্ট এটাক , উচ্চ রক্তচাপ , চর্মরোগ, গলায় মামস , বৃক্কের সমস্যা ও চোখের সমস্যায় ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস এর উপসর্গসমূহ

১) ঘন ঘন প্রস্রাব (Dieresis)

২) বেশী পিপাসা লাগা

৩) শরীরের ওজন দ্রুত কমে যাওয়া (Weight loss)

৪) চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া

৫) অত্যন্ত দুর্বলতা ও উদ্যমহীনতা

৬) তীব্র ক্ষুদা

৭) ক্রোধ প্রবণতা ও বিরক্তি

৮) বমি বমি ভাব বা বমি করা ( Nausea, Vomiting)

৯) শরীরের ক্ষত শুকাতে দেরী হওয়া

১০) মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু মুখে চুলকানি

১১)হাটুর নিচের অংশে ব্যথা বা অবশভাব

১২) মাড়ির রোগ ( Periodontal disease)

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.