ডায়াবেটিস কি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা

ডায়াবেটিস কি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা

ডায়াবেটিস মূলত শরীরের  একটি বিপাক(Metabolism) জনিত সমস্যা যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে গ্লূকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। ডায়াবেটিক রোগীর দেহে গ্লূকোজ পরিপাকের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন তৈরী হয় না বা কোষ ইনসুলিন এর যথোপযুক্ত ব্যবহার করতে পারেনা অথবা একসঙ্গে দুটোই হতে পারে।

ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন

ইনসুলিন হল একটা হরমোন  বা অন্তঃক্ষরা রস যা দেহের কোন কোন নির্দিষ্ঠ কাজকে নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রন করে। ইনসুলিন তৈরী  করে প্যানক্রিয়াস আর এই প্যানক্রিয়াস হল পাকস্থলীর ঠিক নীচে অবস্থিত এক টুকরো ছোট মাংসগ্রন্থি।

প্যানক্রিয়াসের মধ্যে আইটলেস অব ল্যাংগারহ্যানসের  বিশেষ বিটা কোষগুলো

রক্ত স্রোতের মধ্যে সরাসরি ইনসুলিন নিঃসৃত করে । সেখানে ইনসুলিনের কাজ হল রক্তের মধ্যকার গ্লূকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। গ্লূকোজ  বা চিনি হল আমাদের দেহের শক্তির উৎস অর্থাৎ জ্বালানী । গ্লূকোজ হল দেহের মধ্যকার বিভিন্ন পুষ্টি।

ডায়াবেটিস কিভাবে হয়

আমরা  দৈনন্দিন কাজের জন্য যে শক্তি পাই টা মূলতঃ কোষের ভিতর গ্লুকোজের বিপাক কড়ীয়াড় মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। ইনসুলিন নামক হরমোনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ রক্ত রস হতে দেহের পেশীকোষ ও এডিপোজ কোষের ভিতর প্রবেশ করে। অতঃপর এই গ্লুকোজের বিপাকের ফলে দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) এবং CO2 তৈরি হয় ।মানব দেহে পাকস্থলীর পাশে একটি মাংস পিণ্ডাকার গ্রন্থি আছে যার নাম প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয়। এই প্যানক্রিয়াসে কিছু গুচ্ছ কোষ রয়েছে, যেগুলো একত্রে আইলেটস অব ল্যাংগারহ্যানস (ISLETS OF Langerhans) নামে পরিচিত । এই আইলেটস বিটা কোষ হতে প্রাকৃতিক ভাবে  দেহে গ্লুকোজের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরী হয়। কিন্তু বিটা কোষ যখন এই ইনসুলিন সঠিক পরিমানে উৎপন্ন করতে পারেনা বা কোষ ইনসুলিনের প্রতি সঠিক ভাবে সাড়া দেয়না তখন রক্ত হতে গ্লুকোজের কোষের ভিতর প্রবেশ বাঁধা প্রাপ্ত হয়। ফলে,রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং নানাবিধ শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। দেহের এই অবস্থার নামই ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র ।

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত উন্নতির সাথে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক। যে কোনো বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০০৬ সালে ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অব  বাংলাদেশে এর এক জরিপে দেখা যায়, শহর অঞলে ডায়াবেটিস এর হার গ্রামাঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণ এরও বেশী। বাংলাদেশের বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী DM সনাক্ত করণের বাইরে রয়ে গেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ৬.২ শতাংশ  লোক  ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত এবং প্রতি বছর এক  মিলিয়ন ব্যাক্তি ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হচ্ছে যাদের বয়স বিশের উপরে। দেশটিতে ১৯৯৯ সালে ৬৮,৩৯৯ টি ডেথ সার্টিফিকেট এর উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে ছয়টি কারণে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি এবং ডায়াবেটিস এগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে সারা বিশ্বে  প্রায় ২৪০ মিলিয়ন লোক ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। পৃথিবীতে  প্রতি  দশ সেকেন্ডে দুই জন ডায়াবেটিস রোগী সনাক্ত করা হচ্ছে। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরী ।

সুলিন সম্পর্কে কিছু কথা

ইনসুলিন এক প্রকার হরমোনের বা অন্তক্ষরা রস যা প্রোটিনধর্মী। ১৯২০ সালে প্রথম ইনসুলিন পৃথক করা হয়। রাসায়নিকভাবে ইনসুলিন তিনটি অংশ নিয়ে  গঠিত যা Chain-A, Chain-B এবং Connecting Chain নামে  পরিচিত। Chain-A তে ২১ টি অ্যামিনো এসিড, Chain-B তে ৩০টি অ্যামিনো এসিড থাকে এবং Connecting Chain এ  টি অ্যামিনো এসিড থাকে ।Chain A এবং Chain B দুটি সালফাইড বন্ড দিয়ে রেল লাইনের স্লিপারের মত যুক্ত।

ইনসুলিন মানব দেহে স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্যানক্রিয়াস এর Islets of Langerhans এর Beta-cell এ তৈরি হয়। বর্তমানে Recombinant DNA Technology এর মাধ্যমে E.coli থেকে বানিজ্যিকভাবে ইনসুলিন তৈরী হচ্ছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.