হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পরিচয় | Berberis Vulgaris

Berberis Vulgeisr

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পরিচয় | Berberis Vulgaris

বার্বারিসের প্রথম কথা-

ইহা মূত্রপাথরি হইতে হতে পারে, পিত্তপাথরিও হইতে পারে। মূত্র পাথরি জনিত যন্ত্রণা । বামদিকের মূত্রকোষ বা কিডনী হইতে আরম্ভ হইয়া বামদিক ধরিয়া ব্লাডার বা মুত্রাধার পর্যন্ত ছুটিয়া আসে। রোগী সর্বদায় সতর্ক ভাবে চলাফেরা করিতে বাধ্য হয়, , কোমড়ে কাপড় জোড় করিয়া আঁটিতে পারেনা , অতি অল্পেই কোমড়ে দারুণ আঘাত পাইতে থাকে । কিডনীর মধ্যে নানারূপ ব্যথা, জ্বালা , গড়গড় শব্দ; প্রস্রাবের প্রবল বেগ সত্ত্বেও অল্প অল্প প্রস্রাব ও বামদিকে ভীষণ যন্ত্রণা অনুভূত হয়। ক্রমাগত বেগ, ক্রমাগত যন্ত্রণা ; কিন্তু মনে রাখিবেন বামদিকের কিডনীই বেশি আক্রান্ত হয়।  তবে দক্ষিণ কিডনী আক্রান্ত হইলে বার্বারিস যে হইতেই পারেনা ইহা নহে ( সার্সা )।

নড়িতে চড়িতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়। ব্যথা স্থান পরিবর্তন করিলে, ব্যথা উপুর হইয়া বসিয়া থাকিলে উপশম ।

কিডনীর মধ্যে বুজবুজ করিতে থাকে বা বুড়বুড়  করিতে থাকে বলিয়া অনুভূতি ( মেডোরিনাম ) । মল , কাদার মত বা সাদা । কোষ্ঠকাঠিন্য বা উদরাময় ।

বার্বারিসের দ্বিতীয় কথা—

ব্যাথা কেন্দ্রস্থল হইতে চারিদিকে ছুটিয়া যায়(থুজা) বার্বারিস যে শুধু মূএপাথরিতে উপকারে আসে তাহা নহে,পিত্ত-পাথরিতেও ইহা সমধিত উপকারী। যকৃতের দোষজনিত পিত্তপাথরি—যন্ত্রনা কেন্দ্রস্থল হইতে শরীরের চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়াইতে থাকে,উরু,পাছা,অন্ডকোষ পর্যন্ত। মনে রাখিবেন বার্বারিসের ব্যাথা পিত্তপাথরিজনিতই হউক বা মূএপাথরিজনিতই হউক,কেন্দ্রস্থল হইতে চারিদিকে ছুটিয়া যাইতে থাকে।উদরাময়,মল কাদার মত নরম;কোষ্ঠকাঠিন্য মল গুটলে।মলদ্বারে যন্ত্রনা,ভগন্দর।ভগন্দরের উপর অস্ত্রোপচারজনিত যক্ষা বা কাশি।ভগন্দর বা নালী ঘা,মলদ্বারের শিথিলতা,জ্বরায়ুর শিথিলতা প্রভৃতি যক্ষারই পরিচায়কবা জৈব প্রকৃতির ধাতুগত দুর্বলতার পরিচয়।কাজেই টনসিল,টিউমার,ভগন্দর প্রভৃতির সাহায্যে জৈব প্রকৃতি যেটুকু আত্মরক্ষার চেষ্টা করিতে থাকে তাহাকে বাধা দিলে ফল মারাত্মক নাহইয়া যায় না। মাথায় যেন টুপি পরিয়া রহিয়াছে এইরুপ অনুভূতি বা মাথার ভারবোধ কিম্বা অসাড়ভাব। গাউটের ব্যাথা ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করিয়া বেড়ায়।কিন্তু শুধএ গাউটের ব্যাথাই নহে, পরিবর্তনশীলতাই বার্বারিসের একটি অন্যতম বিশিষ্ট পরিচয়।যেমন ব্যাথার স্থান পরিবর্তন,তৃষ্ণার সহিত তৃষ্ণাহীনতা,ক্ষুধার সহিত অক্ষুধা এইরুপ পরিবর্তনশীলতা মনে রাখিবেন।

বার্বারিসের তৃতীয় কথা –

সঙ্গমসুখের অভাব বা স্পর্শকাতরতা। ঋতুস্রাব অত্যন্ত কম , কালবর্ণের ফোঁটা ফোঁটা ভাব বা দুর্গন্ধযুক্ত । শ্লেষ্মা। বাধকব্যথা কোমর ভাঙ্গিয়া পড়িতে থাকে কিম্বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে যন্ত্রনা।

নাড়ী অত্যন্ত মন্দ গতি বা মন্থর গতি (ক্যালমিয়া) ।

বেলা ১১টার সময় জ্বর । অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ব্যথা। প্লীহার বৃদ্ধি।

ন্যাবা, হার্নিয়া, আঁচিল, অবুদ।

পিত্তপাথরির পর ন্যাবা।

পিত্তপাথরির সহিতও পূর্ব কথিত বুড়বুড়  বা বুজবুজ করার মত অনুভূতি ; ব্যথাও চারিদিকে  ছুটিয়া যাইতে থাকে। উঠিতে বসিতে নড়িতে চড়িতে  , শ্বাসগ্রহণ করিতেও কষ্টবোধ বা ব্যথা বৃদ্ধি পায় (মূত্রপাথরি বা পিত্তপাথরি) , হার্নিয়ার ব্যথা ও নড়া-চড়ায় বৃদ্ধি পায়।

অত্যাধিক ভূতের ভয় – নানাবিধ ভীতিপ্রদ মূর্তি দেখিতে থাকে-একাকী অন্ধকারে যাইতে চাহে না।

কটিব্যথা, গোড়ালী নিদারুন ব্যথাযুক্ত। ভগন্দর ; যক্ষ্মা ।

ভগন্দরের যন্ত্রনা মল ত্যাগের পর বৃদ্ধি পায় (সালফ) ।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.