হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সার্সাপ্যারিলার লক্ষণ ও সদৃশ ঔষধাবলি

sarsaparilla

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সার্সাপ্যারিলার লক্ষণ ও সদৃশ ঔষধাবলি

সার্সাপ্যারিলার প্রথম কথা

সিফিলিস, সাইকোসিস বা পারদের অপব্যবহারজনিত দেহের শীর্নতা বা ক্ষয়দোষ।

সিফিলিস এবং সাইকোসিসের সংমিশ্রণের ফলে অথবা  তাহাদের সহিত পারদের অপব্যবহার ঘটিয়া জৈব প্রকৃতি যেখানে এত অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছে যে রোগের পূর্ন পরিচয়দিতে  পারিতেছে না এবং ক্ষত, চর্মরোগ, অর্বু, গ্রন্থি বিবৃদ্ধি, কেরিজ, নিক্রোসিস বা গাঁটে গাঁটে প্রদাহ লইয়া বহুদিন যাবত কষ্ট পাইতেছে অথবা পিতা মাতার নিকট হইতে প্রাপ্ত দোষে স্ক্রোফুলাগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছে, কঙ্কালসাড় হইয়া পড়িয়াছে ,সেইখানে অনেক সময় সার্সাপ্যারিলা বেশ ফলপ্রদ হয় ।

সার্সাপ্যারিলার দ্বিতীয় কথা

প্রস্রাব আরম্ভ হইবার বা শেষ হইবার মুখে  যন্ত্রণা । সার্সাপ্যারিলায় সাইকোসিসও আছে। কাজেই মনেহয়  তাহারই  প্রভাবে প্রস্রাব করিবার মুখে বা তাহা শেষ হইবার সময় যন্ত্রনা দেখা দেয় এবং যন্ত্রনা এত বিষম হয় যে  শিশুরাও প্রস্রাব করিবার পূর্বে কাঁদিতে থাকে । বৃদ্ধদিগের মধ্যে প্রস্রাব  শেষ হইবার সময়ই যন্ত্রনা বেশি হয়। প্রস্রাবের সময় ক্রমাগত বেগ অথচ প্রস্রাব পরিমানে খুব অল্প হইতে থাকে।

প্রচুর প্রস্রাব, রাত্রে উঠিয়াও প্রস্রাব করিতে হয়। ছেলেরা রাত্রে  শয্যায় প্রস্রাব করিয়া ফেলে।

সার্সাপ্যারিলার তৃতীয় কথা

না দাঁড়াইলে প্রস্রাব হয় না(কোনিয়াম)। সার্সাপ্যারিলার প্রথম কথায় আপনারা পাইয়াছেন পারদের স্থুল মাত্রার সাহায্যে সিলিফিস বা সাইকসিসের প্রতিকার করিতে গিয়া দেহ ও মনের শোচনীয় অবস্থা , দ্বিতীয় কথায় পাইয়াছেন প্রসাব আরম্ভ হইবার মুখে বা প্রস্রাব শেষ হইবার মুখে যন্ত্রনা । এইবার তাহার তৃতীয় কথায় পাইলেন না দাঁড়াইলে প্রস্রাব হয় না ( কস্টিকাম) । সার্সাপ্যারিলার রোগী বসিয়া প্রস্রাব করিতে গেলে প্রস্রাব ফোটা ফোটা পড়িতে থাকে বা গড়াইয়া গড়াইয়া পড়িতে থাকে এবং দাঁড়াইয়া করিবার  সময় তাহা বেশ সবেগে নির্গত হইয়া যায়

( জিঙ্কাম ইহার বিপরীত অর্থাৎ না বসিলে প্রস্রাব হয় না)। 

স্ত্রীলোকদের  প্রস্রাব দিয়া বায়ু নিঃসরণ ( প্রস্রাবদ্বার দিয়া-লাইকো)।

সার্সাপ্যারিলার  চতুর্থ কথা

 দক্ষিণ কিডনীতে পাথরি এবং দুর্গন্ধ জননেন্দ্রিয় ।

সার্সাপ্যারিলার প্রস্রাবে শর্করা জমিতে থাকে এবং তাহা প্রায় সাদা বর্ণের হয়। এই শর্করা জমিয়া পাথরিতে পরিণত হইয়া যখন কিডনী পথে বাধা দিতে থাকে তখন প্রস্রাবকালে বিষম ব্যথা প্রকাশ পায় । এরূপ ক্ষেত্রে বার্বারিস, ক্যান্থারিস , লাইকোপোডিয়াম, সার্সাপ্যারিলা প্রায়ই বেশ উপকারে আসে। সাধারণত দক্ষিণ কিডনী আক্রান্ত হইলে লাইকো ও সার্সা এবং বাম কিডনী আক্রান্ত হইলে বার্বারিস ও সার্সা উভয়ই কিডনীর উপর কাজ করিতে পারে।।

সদৃশ ঔষধাবলী- ( মূত্র পাথরি )

দক্ষিণদিক-লাইকো, নাক্স, ক্যান্থারিস, ওসিমাম ক্যান।বামদিক-বার্বারিস, প্যারেইয়া, ট্যাবেকাম,ক্যান্থারিস, ওসিমাম, ক্যান। ব্যাথার সহিত বমি-ওসিমাম ক্যান। ব্যাথা চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িতে থাকে-বার্বারিস। ব্যথার সহিত বরফ খাইবার ইচ্ছা-মেডোরিনাম। প্রস্রাব করিবার জন্য উপুড় হইয়া মাথা খুড়িতে থাকে- প্যারেইয়া। থাসপি বার্সা- ইহাও একটি চমৎকার ঔষধ। ইউরিয়াও আর একটি চমৎকার ঔষধ।

Share this post

Comment (1)

  • Dr. Amir Reply

    অত্যন্ত উপকারি পোস্ট।

    August 3, 2021 at 10:49 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *